ঢাকা,  রোববার  ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

নিউজ জার্নাল ২৪ :: News Journal 24

বাঁকখালী নদীতে আবাসন এলাকাঃ বেলার হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের উচ্ছেদ নাটক

নিউজ জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৪৭, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

বাঁকখালী নদীতে আবাসন এলাকাঃ বেলার হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের উচ্ছেদ নাটক

নিউজ জার্নাল ২৪

অবৈধ দখল অব্যাহত থাকায় অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে কক্সবাজারের এক সময়ের খরস্রোতা বাঁকখালী নদী। দু’পাড় সংকুচিত হয়ে পর্যটন শহরের মিঠাপানির প্রাণ এ নদী ক্রমেই ছোট খালে পরিণত হচ্ছে। নদী তীর ভরাট ও অবৈধ দখলে জড়িতদের সনাক্ত করে মামলা করা হলেও থেমে নেই দখল।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন,বিআইডাব্লিউটিএ,উপকূলীয় বণবিভাগ এর তালিকায় কক্সবাজার পৌরসভাসহ ১৫৭জন প্রভাবশালীসহ ৪২০ জন দখলদারকে চিহ্নিত করেছে।জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে ১০৯ জন দখলদারের পরিচিতি দিয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে থেমে আছে উচ্ছেদ কার্যক্রমও। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বাকঁখালী দখলদারদের তালিকা তৈরী করে তাদের উচ্ছেদ এবং দূষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সাথে আদালত নদীর তীর চিংড়ি, তামাক বা ভিন্ন কোন উদ্দেশ্যে ইজারা প্রদান থেকে বিরত থাকতে ভুমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ১০ সরকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু গুরুত্বপুর্ণ এ নদী রক্ষায় আদালতের নির্দেশনার ৬ বছর পার হয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা কক্সবাজার পৌরসভা কার্যকর কোন পদক্ষেপই নেয়নি। নির্ধারণ হয়নি নদীর সীমানা। উল্টো প্রতিদিন শহরের যত ময়লা-আবর্জনা সবই ফেলা হচ্ছে বাঁকখালী নদীতে। সমানতালে চলছে নদী ভরাট ও দখলের প্রতিযোগীতা। দখলবাজ চক্র নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার পাশাপাশি অস্তিত্বহীন বাঁকখালী নদীর জমি দেখিয়ে কোটি-কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নেওয়ার নজিরও রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে নদী দখলদারদের যে তালিকা করা হয়েছে তাতে প্রভাবশালী অনেকের নাম বাদ পড়েছে।

মঙ্গলবার বাঁকখালীর করুণ অবস্থা দেখতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বাঁকখালী রক্ষায় দ্রুত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে যুগপৎ আন্দোলনে নামার হুশিয়ারী দেন।

পরে বিকেলে অভিযানে যায় উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগ। এসময় নদী দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা ও বালু উত্তোলনের পাইপ। এসময় বালু উত্তোলনে নিয়োজিত মোর্শেদের মালিকানাধীন একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে বিআইডব্লিউটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জব্দ করা দখলে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিল্লুর রহমান।

অভিযান শেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া সাংবাদিকদের জানান, অপকর্ম করে কেউ পার পাবে না। "বাঁকখালী ধ্বংসের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সাথে নিধন করা প্যারবনের জায়গায় বনায়ন করা হবে।"

বাঁকখালী নদীর সীমানা নির্ধারণে একটি সমীক্ষা শুরু করেছেন। যেকোনভাবে বাঁকখালীকে দখলমুক্ত করার কথা বলছেন তারা।

তিনি আরও জানান, "দুষ্কৃতকারীরা খুবই শক্তিশালী। দখলদারদের বিরুদ্ধে আগের মামলাগুলোর অগ্রগতি বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের দমনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে"।

  এসময় সদর এসিল্যান্ড মো. জিল্লুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগ, বিআইডব্লিউটি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।