ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর স্বজনরা জানিয়েছেন। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিয়াজ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ ট্রুম্যানের ছেলে জাবির ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন রিয়াজের স্বজনরা।
স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ হোসেনের ওপর কয়েকজন যুবক হামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, জাবিরের নেতৃত্বে ওই ব্যক্তিরা রিয়াজকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের দাবি, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিয়াজের একটি আঙুলের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অন্য একটি ক্ষতিগ্রস্ত আঙুলের অস্ত্রোপচার সেখানে করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা। পরে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রিয়াজের স্বজন ও অনুসারীরা ঘটনার তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত জাবির, তাঁর বাবা হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান কিংবা তাঁদের পক্ষের কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজের সঙ্গে হারুনুর রশিদ ট্রুম্যানের বিরোধ ছিল। তাঁদের অভিযোগ, ওই সময়ে ট্রুম্যানের ওপর হামলা এবং তাঁর বাসায় হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। বর্তমান হামলার সঙ্গে সেই পুরোনো বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন।
তবে এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে পূর্ববিরোধের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।









