ঢাকা,  বৃহস্পতিবার  ১৩ জুন ২০২৪

নিউজ জার্নাল ২৪ :: News Journal 24

রিজার্ভ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২২:২৪, ২৩ মে ২০২৪

রিজার্ভ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

সব দেশের মতো বাংলাদেশেও মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। রিজার্ভেও একই কথা। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কারণ, আপদকালীন খাদ্য মজুত রয়েছে। বেশি আলোচনার জন্য এখন প্রায় সবাই রিজার্ভ নিয়েই কথা বলেন। আর এই সতর্কতা দেশের জন্য ভালো বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেছেন, চক্রান্ত এখনো আছে। ফিলিস্তিনের মতো বাংলাদেশেও একটা অংশ নিয়ে..। চট্টগ্রামে খ্রিষ্টান স্টেট বানাবে, বে অব বেঙ্গেলে ঘাঁটি বানাবে। তার কারণ হলো বে অব বেঙ্গল ও ভারত মহাসাগর। এখানে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। এই জায়গার ওপর অনেকের নজর। যেটি আমি হতেও দিচ্ছি না। এটি আমার একটা অপরাধ।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

বিগত সময়ে অগ্নি-সন্ত্রাস জ্বালাপোড়াও হরতাল অবরোধ করে বিএনপির জামায়াতের নির্বাচন ঠেকানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জোট নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ঠেকানোর চেষ্টা করল। ইলেকশন ঠেকানোর জন্য আরও অনেকের মদদ ছিল আমি জানি। ইলেকশন ঠেকাতে পারেনি। আমরা ইলেকশন করে আবার সরকারে ফিরে এসেছি।’

‘২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে এলো কিন্তু মাঝপথে তারা সরে গেল। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে তারা একটি সিটের বিপরীতে দুইটা তিনটা করে তাদের প্রার্থী রাখল। কারণ প্রার্থী একটা লন্ডন থেকে আসছে, প্রার্থী একটা পুরানা পল্টন থেকে গেছে আরেকটা গুলশান থেকে গেছে। তিন জায়গা থেকে তারা প্রার্থী দিয়েছে। ফলে তখন থেকে ইলেকশনের বিরুদ্ধে।’

কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে নির্বাচন ঠেকানোর ইস্যুতে এক বৈশ্বিক পরাশক্তির দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এরপরের যে ষড়যন্ত্র, ইলেকশন হতে দেবে না। তবে দেবে, আমার ক্ষমতায় আসতেও অসুবিধা হবে না! যদি আমি বাংলাদেশে কারও এয়ারবেস করতে দেই, ঘাঁটি করতে দেই। তাহলে আমার কোনো অসুবিধা নেই। কোনো এক সাদা চামড়ার প্রস্তাব।’

তিনি বলেন, ‘আমি একই জবাব দিচ্ছি। স্পষ্ট বলেছি, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের অংশ ভাড়া দিয়ে বা কারও হাতে তুলে দিয়ে আমি ক্ষমতায় যেতে চাই না। আমার ক্ষমতার দরকার নাই। যদি জনগণ চায় ক্ষমতায় আসব, না হলে আসব না। কথাগুলো বললাম কারণ সবার জানা থাকা উচিত।’

আমার যুদ্ধ ঘরে-বাইরে সব জায়গায় দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অবস্থায় কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে ছেড়ে দিলাম।’

এখানে এয়ারবেস করে কার উপর হামলা করতে করবে প্রশ্ন তুলে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদিও একটা দেশকে দেখানো হয়। কিন্তু সেটি তো আমি জানি? আর কোথায় যাবে? যে কারণে আমাদের কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এবং হবে; আমি জানি। কিন্তু আমি ওটা পাত্তা দেই না। সোজা কথা দেশের মানুষ আমার শক্তি। মানুষ যদি ঠিক থাকে আমরা আছি। আর দেশটার যে উন্নতি হচ্ছে এটাও অনেকের পছন্দ না।’

স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিগুলোকে আরো সুসংগঠিত হয়ে জনগণকে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করানোর লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান জোট নেত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ছাড়া দেশের মানুষের কোনো কল্যাণ হবে না। গ্রেনেড হামলাকারী, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি দুর্নীতিবাজ; এরা যদি সেই বিদেশের মাটিতে বসে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি সেই সুযোগ পাচ্ছে। সেই সুযোগ নিয়ে সেখান থেকে সরকার উৎখাতসহ নানা রকম হুমকি-ধামকি দেয়। যতক্ষণ জনগণ আছে আমাদের সঙ্গে। ওটি কেয়ার করি না। দেশে জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসংযোগ যেন করতে না পারে। এটি যারা করবে তাদের কোনো ছাড় নেই। যতই মুরব্বি ধরুক, আর যাই করুক তাদেরকে আমরা ছাড়ব না। পরিষ্কার কথা, মানুষের ক্ষতি যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

বৈঠকে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন