ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত খামারি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের খামারে ব্যতিক্রমী এক্সপোজার ভিজিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই খামার ব্যবস্থাপনার একটি বাস্তব ও কার্যকর উদাহরণ দেখতে এ ভিজিটে অংশ নেন ভোলা ও দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিরা।
World Bank ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)–এর সহযোগিতায় পরিচালিত Sustainable Microenterprise and Resilient Transformation (SMART) প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) বাস্তবায়নাধীন “Promoting Sustainable Growth in Poultry Sub-sector through RECP Practice” উপ-প্রকল্পের উদ্যোগে ক্ষুদ্র খামারিদের নিয়ে দিনব্যাপী এ এক্সপোজার ভিজিটের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম রাকিবের খামারে অনুষ্ঠিত এই এক্সপোজার ভিজিটে মুরগির খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হয়।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার লেয়ার মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করছেন। উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে তিনি নিজ পরিবারের জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আশপাশের অন্তত আরও ১৫টি পরিবারে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। এক্সপোজার ভিজিটে অংশ নেওয়া খামারিরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা, সার্ভিস লাইন এবং বাসাবাড়ি পর্যায়ে গ্যাসের চাপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা প্ল্যান্ট পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন এবং এর কার্যকারিতা দেখে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। উপস্থিত কয়েকজন খামারি নিজেদের খামারেও একই ধরনের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রকল্পের আওতায় সদস্য পোল্ট্রির বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মূলত প্রকল্পের অন্য সদস্যদের এই ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরের আয়োজন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিজেইউএস এর সহকারী পরিচালক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক তরুণ কুমার পাল, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড RECP অফিসার মো. মানছুর আলম, টেকনিক্যাল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসানসহ উপ-প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এক্সপোজার ভিজিটে SMART পোল্ট্রি প্রকল্পের ১০ জন খামারি অংশ নেন।
এ ধরনের উদ্যোগ খামারিদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াবে এবং টেকসই কৃষি ও পোল্ট্রি খাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসার ঘটিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যয় সাশ্রয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।









