স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরও বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার ঘটনার ব্যাখা দিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
জেলা প্রশাসক জানান, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত একটি আবেদন শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তার বাংলোতে আসে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে জানান।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাদ্দাম যেহেতু জেলার বাইরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন, তাই ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি দেয়া নিয়মবহির্ভূত।
আবেদনকারীদের বিষয়টি জানানো হলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে চলে যান। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক তাকে বাগেরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। সেখানে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি দেয়ার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। আইন অনুযায়ী যেই কারাগারে আসামি বন্দি আছেন, সেখানেই আবেদন করতে পরামর্শ দেয়া হয়। পরে আর কোনো উপায় না পেয়ে যশোর কারাগারে মরদেহ নিয়ে গেলে মাত্র তিন মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ দেয়া হয়।’
এর আগে, শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ওই নারী।
পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন সাদ্দাম। বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জানাজা শেষে বাগেরহাট সদরের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
এর আগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মাত্র পাঁচ মিনিট স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছায়।
স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে কারাগারে পৌঁছানো হয়। সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন আত্মীয়স্বজন ছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে এবং অল্প সময় পর আবার বাইরে বের করে দেয়া হয়।









